HeadLogo

দ্বারোদ্ঘাটন হলো ধর্মনগরে অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য স্মৃতি ভবনের - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
১৯ নভেম্বর ২০২০  
বৃহস্পতিবার

ধর্মনগর প্রতিনিধিঃ বহু প্রতীক্ষার পরে ধর্মনগরের শিল্পীদের জন্য উপহার স্বরূপ আনুষ্ঠানিক ভাবে দ্বার উদ্ঘাটন হলো পুরাতন টাউন হলের। উওর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই পুরাতন টাউন হলটি সংস্কারের পরে  নতুন করে নামকরণ করা হলো অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য স্মৃতি ভবন। এই অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য স্মৃতি ভবনের শুভ দ্বারোদ্ঘাটন হলো বুধবার।দ্বারোদ্ঘাটন করলেন রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষ তথা ধর্মনগরের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন। সাথে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি ভবতোষ দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মনগর পুরো পরিষদের ভাইস চেয়ারপার্সন মানিক লাল নাথ সহ ধর্মনগর পৌর পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা ধর্মনগরের মহকুমাশাসক কমলেস ধর। 


আজকের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মনগর পুরো পরিষদের চেয়ারপার্সন শক্তি ভট্টাচার্য। সম্মানিত উদ্বোধক  তথা উপাধ্যক্ষ বিশ্ব বন্ধু সেন তার আলোচনার মধ্য দিয়ে অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য স্মৃতি ভবন নামকরণের তাৎপর্য তুলে ধরেন। ধর্মনগর পোস্ট অফিস রোডের বাসিন্দা প্রয়াত অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ফিল্ম এবং টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ায় সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করেন।একটা সময় ধর্মনগর বীর বিক্রম ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা করার সময়  ধর্মনগরের নাটক নির্মাণে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছেন।  


গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজেও নিযুক্ত ছিলেন তিনি। মুম্বাই ও গোহাটিতে অনেকগুলো ডকুমেন্টারির কাজ করেছেন। অর্ধেন্দু ভট্টাচার্যের তৈরি দুইটি বিখ্যাত সিনেমা হলো ১৯৮০ সালে "ইন্দিরা" ও ১৯৮৪ সালে "মানিক রইথাং"। এই দুটি ছবি রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পায়।যা এই পার্বত্য ত্রিপুরা তথা ধর্মনগরকে গৌরবান্বিত করে গেছে। এই ছবিগুলো প্যানোরোমা বিভাগে বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এমনকি উনার তৈরি সিনেমার  প্রশংসিত হয়  সত্যজিৎ রায় এর মতো বিশ্ব বিখ্যাত  প্রযোজকের কাছে। অর্ধেন্দু ভট্টাচার্যের  কর্মক্ষেত্রে মহান কৃতিত্বের  জন্য ধর্মনগরের এই কৃতি সন্তানকে শ্রদ্ধা জানাতেই ধর্মনগর পুরাতন টাউন হল টিকে উনার নামাকরণে করা হয়। তবে বহু দিন পর এই হলটি পুনরায় উদ্বোধন হওয়ায় ধর্মনগরের শিল্পীমহলে বেশ উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।  


কেননা এতদিন যাবৎ কেবলমাত্র বিবেকানন্দ ভবনটি উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু বিবেকানন্দ ভবনে অনুষ্ঠান করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে বর্তমান অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য স্মৃতি ভবন এর দৈনিক ভাড়া ৫০০ টাকা হওয়ায় শিল্পীদের জন্য অনেকটাই সুবিধা হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন ভবনে ধর্মনগরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। যেমন আগামী ২৮ নভেম্বর ধর্মনগরের লার্নার্স এডুকেশনাল  সোসাইটি তাদের নাটক 'যশোমতী' অর্ধেন্দু স্মৃতি ভবনে পরিবেশন করতে যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই