HeadLogo

করোনায় উত্তর জেলা জুড়ে কমলো ৭৫% পুজো, রাত ১২ টা থেকে জারি কারফিউ - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
১৭ অক্টোবর ২০২০ 
শনিবার    

ধর্মনগর প্রতিনিধিঃ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই উত্তর জেলার দূর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে জানালেন উত্তরের পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী। জানা গেছে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর গোটা জেলায় প্রায় ৭৫% পুজো হচ্ছে না। বিগত বছরগুলোতে যেখানে উত্তর জেলায় প্রায় তিন শতাধিক পুজা হতো। সেই জায়গায় এবছর মাত্র ৭৪ পুজোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে। এর মধ্যে ধর্মনগরে মাত্র ২৫টি। জেলার বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের পুজো এ বছর হচ্ছে না। তারপরেও উত্তর জেলার আসন্ন দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসন বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।  


যেমন জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি থাকবে। যাতে কোন প্রকার দুষ্কৃতীরা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে কোন বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি জেলার চারিদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। উত্তর জেলার মধ্যে ধর্মনগরে প্রতিবছর সারা জাগানো দূর্গোৎসব হয়ে থাকে। তাই ধর্মনগর শহরের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। এছাড়া অন্যান্য বছরের মতো শহরের বেশ কয়েকটি জনবহুল স্থানে ওয়াচ পোস্ট তৈরী করা হবে। পুজোর কয়েকটি দিন রাত বারোটার পর থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত জারি থাকবে কারফিউ।  


ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানের পুজো উদ্যোক্তাদের সাথে প্রতিটি থানা একাধিক বার আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। পুজোর উদ্যোক্তাদের জানানো হয়েছে প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে যেন অধিক পরিমাণে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়। পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবক মিলে পূজামণ্ডপ গুলোতে আগত দর্শনার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য করা হবে। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক প্রত্যেকটি পুজো উদ্যোক্তাদের ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা যেন মন্ডপ উন্মুক্ত রাখেন। মণ্ডপে ভিড় জমতে না দেন। প্রত্যেক দর্শনার্থীদের মাক্স পড়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের কোভিড সম্পর্কিত সচেতনতা মূলক বার্তা পৌঁছে দেন। 


মন্ডপ গুলোকে খানিক পর পর সম্পূর্ণ স্যানিটাইজার করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মায়ের অঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে মাইক যোগে মন্ত্র উচ্চারণ করা হবে। যারা অঞ্জলী নেবেন তারা যেন প্রত্যেকে বাড়ি থেকে ফুল বেলপাতা নিয়ে আসেন এবং একসাথে ১৫ জনের অধিক অঞ্জলি নিতে পারবেন না। এটাও জানা গেছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নজর রাখা হবে যে পুজো উদ্যোক্তারা সামাজিক দূরত্ব, মাক্স ব্যবহার ও স্যানিটাইজারের আদেশ পালন করছেন কিনা। যদি না করে থাকেন দর্শনার্থীদের জরিমানা করা হবে এবং পুজো উদ্যোক্তাদের পুজো পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসন কর্তৃক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই