HeadLogo

বিয়ে বাড়িতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার দুই নাবালিকা - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমবার

পানিসাগর প্রতিনিধিঃ পাশের বাড়ির বিয়ে বাড়িতে বেড়াতে  গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হল দুই নাবালিকা। ঘটনা, উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগর মহকুমার রৌয়া চামটিলা এলাকায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে গত ২৬-সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে আট ঘটিকায় রৌয়া চামটিলা ৩ ওয়ার্ড এর নিবাসী মোঃ  মিন্টু  মিয়ার নাবালিকা দুই কন্যা প্রতিবেশী মো:কুদ্দুস আলীর  বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠানে বেড়াতে যায়।  ক্লাস দশম ও অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত মিন্টু মিয়ার দুই নাবালিকা কন্যা বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হলে ঐ বাড়িতেই অবস্থানরত রৌয়া ৫ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের পুত্র মোঃ ইমরান উদ্দিন ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পুত্র মোঃ লিটন উদ্দিন নাবালিকাদের উদ্দেশ্য করে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্থাব দিতে থাকে। 


এমনকি নাবালিকাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ও হাতে ধরে শালীনতা হানি করতে থাকে। এমতাবস্থায় মিন্টু মিয়ার ১৬ বছর বয়সি বড় মেয়ে অসভ্য আচরণ রত ছেলে দুটিকে প্রতিবাদ করতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তাতে পরিবেশ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকে। তখনই মিন্টু মিয়ার ছোট মেয়ে দৌড়ে বাড়ি এসে নিজ কাকা শফিক উদ্দিনকে ঘটনা জানালে শফিক উদ্দিন বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে নিজের ভাতিজি দেরকে ধমক দিয়ে বিয়ে বাড়ির ঘরের ভেতর পাঠিয়ে দেন এবং কাকা শফিক উদ্দিন অভিভাবকের   ভূমিকা পালন করে অসভ্য আচরণ রত ছেলে দুটিকে  বুঝিয়ে সুঝিয়ে  বিষয়টির মীমাংসা করে দেওয়া হয়। 


কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রৌয়া ৫ নং ওয়ার্ডের  বাসিন্দার বিবাহ বাড়িতে দুষ্টু আচরণকারী ইমরান উদ্দিন এর বড় ভাই আজিজুর রহমান এর অপর পুত্র আতাউর রহমান এবং মৃত বুরহান উদ্দিনের পুত্র ইলিয়াস উদ্দিন ও ইয়াজ উদ্দিন তাদের গ্রামের কিছুসংখ্যক দলবল সহ গুন্ডা বাহিনী দের কে নিয়ে বিবাহ বাড়িতে উপস্থিত হয়।

বিয়ে বাড়িতে দুষ্ট ছেলেদের দ্বারা শালীনতা হানির শিকার হওয়া মেয়ে দুটির কাকা শফিক উদ্দিন কে মারধর করতে থাকে। এমতা অবস্থায় মেয়ে দুটি  নিজ কাকা কে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে, গুন্ডা বাহিনীর দল মেয়ে দুটিকেও কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে। উপস্থিত লোকদের মধ্যে চিৎকার চেঁচামেচি হতে থাকলে নিজ বাড়িতে অবস্থানরত মিন্টু মিয়া ও তার বড় ভাই সহ বাড়ির অন্যান্য মহিলারা বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হন।


বিষয়টি অবগত  হওয়ার জন্য সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করলে মিন্টু মিয়া ও তার বড় ভাইয়ের উপর গুন্ডা বাহিনীর দল যৌথভাবে আক্রমণ চালায়। তাতে মিন্টু মিয়ার বড় ভাই মাথায় চোট পান। হাতে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।তাদের সামনেই মেয়ে দুটিকে হাতে ধরে টানাহেঁচড়া করতে থাকে এই অবস্থায় বিয়ে বাড়িতে দক্ষযজ্ঞ কান্ড ঘটে যায়। এই দক্ষযজ্ঞ কান্ডতে মেয়ে দুটোর কাকা বাবা এবং জেঠা অল্পবিস্তর আহত হন। ঘটনা চলাকালীন সময়ে পানিসাগর থানায় খবর পৌঁছলে পানিসাগর থানার কর্মীবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের পানিসাগর হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। পরমুহূর্তে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া  দুটি মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে পানিসাগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে উক্ত ঘটনার সুষ্ট তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।এখন দেখার বিষয়,  বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দুটি নাবালিকা মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনার কি প্রকার সুষ্ট তদন্ত গ্রহণ করা হয়।



কোন মন্তব্য নেই