HeadLogo

অকর্মণ্য আবগারি দপ্তর, অধরাই থাকবে নেশামুক্ত ত্রিপুরার স্বপ্ন - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
শনিবার   

ধর্মনগর প্রতিনিধিঃ উত্তরের আবগারি দপ্তরের ভূমিকায় দিনকে দিন ক্ষোব বেড়েই চলেছে উত্তর জেলা বাসির। কেননা বর্তমান যুব সমাজ যে ভাবে নেশায় আসক্ত হয়ে পরছে তা থেকে যুব সমাজকে কিছুটা রেহাই দিতে পারে এই আবগারি দপ্তর। অথচ যুব সমাজকে রেহাই তো দূরের কথা। দপ্তরের গাফিলতি ও একাংশ আধিকারিকদের বাঁকা পথের কামাই এর কারনে ধর্মনগর মহকুমার আনাচে কানাচে গজিয়ে উঠছে অবৈধ নেশার ঠেক।পাশাপাশি জেলায় সরকারী বরাদ প্রাপ্ত দেশী-বিদেশি মদের দোকান গুলোতেও চলছে সরকারী নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের মর্জি মাফিক ব্যবসা। কিন্তু আবগারি দপ্তরের তাতে কোন যায় আসে না। হয়তো অবৈধ নেশার ব্যবসা বাড়লে ঐ একাংশ আধিকারিকের পকেটটা আরো ফুলেফেঁপে উঠে। 


আবগারি দপ্তরের উত্তর জেলার দপ্তরটি হচ্ছে ধর্মনগর জেলাশাসক কার্যালয়ের দ্বিতল ভবনে। কার্যালয়ের প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে তিনটি সরকারী বরাদ প্রাপ্ত বিলিতি মদের দোকান রয়েছে। লকডাউনের মাঝেও সরকার যখন নির্দিষ্ট সময় বেধে ঐ দোকান গুলোকে খুলে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। তখন থেকেই ঐ আদেশ পেয়ে আদেশ কে সরকারী টেবিলে রেখেই তাদের ইচ্ছে মত সময়ে অসময়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় দোকান গুলোতে নেই কোন সামাজিক দুরত্ব মেনে মদ কেনার পরিবেশ। মদ কিনতে প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় দোকানের বারান্দায় উপচে পড়া ভিড়। সরকারী নির্দেশ মোতাবেক সন্ধ্যা ৭ টায় দোকান বন্ধ করার কথা থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের পরে লোক দেখানো সামনের দরজা বন্ধ করে কখনো পেছনের দরজা দিয়ে আবার কখনো সামনের দরজা দিয়েই বিক্রি হচ্ছে অবাধে মদ। 


কিন্তু আবগারি দপ্তরের কোন হেলদোল নেই। এই ভাবে সরকারী নির্দেশ ভেঙে মদ বিক্রির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানালেও তাদের উত্তরে পরিষ্কার ভাবে ফোটেউঠে গরিমশির মনভাব। এছাড়াও ধর্মনগর শহরের চারিদিকের যেসব অবৈধ নেশার কারবার রয়েছে সে সবেও লাগাম টানতে আবগারি দপ্তরের ভূমিকা খুব একটা নজরে আসেনা। আবার কখনো হটাৎ বাজারে কিংবা শহরের কোথাও অবৈধ মদের ঠেকে অভিযান চালালেও সাংবাদিকদের কাছে বাজেয়াপ্ত করা মদের পরিমাণ জানাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন দপ্তরের আধিকারিক গন।

যেমন বিগত কিছু দিন পূর্বেও রাত প্রায় ৭.৩০ টা নাগাদ আচমকা দপ্তরের উদ্যোগে অভিযানে নামলেও লক্ষ্য করা যায় আধিকারিক গন সরকারী বরাদ প্রাপ্ত দোকান গুলো সরকারী নির্দেশকে অমান্য করে খোলা দেখেও কোন পদক্ষেপ নিলেন না। বরং একটি পানের দোকান থেকে কিছু অবৈধ মদ উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাদের উদ্ধার কৃত মদের পরিমাণ সহ অন্যান্য বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে গেলে আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা জানান দপ্তরে এসে জানাবেন। কিন্তু আশ্চর্য জনক বিষয় আধিকারিক সহ দপ্তরের গাড়িটি ঐ ঘটনাস্থল থেকে উধাও হয়ে ঐ দিন গভীর রাত পর্যন্ত আর দপ্তরে আসেনি।এদিকে সাংবাদিকরা ঘন্টার পর ঘন্টা দপ্তরের সামনে অপেক্ষা করতে থাকলেন। 


তা থেকে আন্দাজ করা যেতেই পারে ,উদ্ধারকৃত অবৈধ নেশা দ্রব্য গুলো নিয়ে কোন কুমতলবেই তারা সাংবাদিকদের এড়িয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। গোটা ধর্মনগরেই জোট আমলের প্রথমে কিছুটা অবৈধ নেশার কারবার বন্ধ হলেও বর্তমানে আবার যেই সেই রূপ নিয়েছে। যেমন ধর্মনগর পূর্ব বাজার বিগত কয়েক দশক যাবত দেশি বিদেশি মদের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু রাজ্যে বামের পর জোট সরকার এসেও ধর্মনগর পূর্ব বাজারের একবিন্দুও মদের কারবার বন্ধ করতে পারেনি।

 

এক্ষেত্রেও মূলত দায় বর্তায় আবগারি দপ্তর এর উপর। আবগারি দপ্তরেরর এই সকল বিভিন্ন দায়সারা কর্মকাণ্ডের ফলে দিন দিন দপ্তরের উপর থেকে বিশ্বাস হারাচ্ছে জনগন। উত্তর জেলার বিশেষত ধর্মনগরের অবৈধ নেশার কারবার বন্ধ করতে তাদের বর্তমানে যে অনীহা দেখা দিয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট সরকার যতই চেষ্টা করুক নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাংশ আধিকারিকদের জন্য তা কখনো সফল হবে না। 



কোন মন্তব্য নেই