HeadLogo

হোম কোয়ারেন্টাইনে আবদ্ধ দুটি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে সরকারি সাহায্যের জন্য আশাবাদী - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
২১ আগষ্ট ২০২০
শুক্রবার  

চুরাইবাড়ি প্রতিনিধিঃ রাজ্যে প্রতিদিন যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমনের সংখ্যা। তেমনি করোনা সংক্রমনের ফলে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। এমনই এক চিত্র দেখা গেল উত্তরের কদমতলা ব্লক অধীনে সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নং ওয়ার্ডে। গত ১ লা আগস্ট স্থানীয় পঞ্চায়েতের ৪ নং ওয়ার্ডের একটি বাড়ির এক সদস্যের শরীরে করোনা পজিটিভ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য পানিসাগর কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাথে বাড়িতে থাকা দুটি পরিবারকে ১৪ দিনের জন্য সম্পূর্ণরূপে হোম কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়। 


তারপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওই যুবককে চিকিৎসা করে ৯ দিন পর নেগেটিভ আসার পর তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার সাথে বাড়িতে থাকা দুটি পরিবারের আরও ৯ জনের করোনা টেস্ট করানোর পর ৫ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়াতে বাকি ৫ জনকে চিকিৎসার জন্য পানিসাগর কভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাথে পুনরায় আরও ১৪ দিনের হোম হোমকরেন্টাইন করে রাখা হয় ওই দুটি পরিবারকে। আজ ১৯ দিন অতিক্রান্ত ওই দুটি পরিবার হোম কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় রয়েছেন। 


ফলে ঐ ২ টি পরিবার দীর্ঘ ১৯ দিন যাবত হোম কোয়ারেন্টাইনে আবদ্ধ থাকায় পানীয় জল খাদ্য অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে ২ টি পরিবারের লোকজনদের। তবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সচিব ও প্রধান অবগত থাকলেও ১৯ দিনের মধ্যে একদিন নাম কি ওয়াস্তে ৫ কেজি চাল ও অন্যান্য কিছু খাদ্য সামগ্রী দিয়ে চলে গেলেও  তাদের আর কোনো খোঁজখবর নেয়নি স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন এমনি গুরুতর অভিযোগ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিবারের লোকজনের। কিন্তু দুটি পরিবার কোয়ারেন্টাইনে থাকায় উনাদের কৃষি জমির চারপাশে ধান অনেক উঁচু উঁচু হয়ে গেছে তাই উনাদের কৃষিজমি এখনো পতিত পড়ে রয়েছে। কিন্তু কৃষির মরশুম চলে যাওয়াতে এবছর ঐ দুটি পরিবারের কৃষিজমিতে আর কৃষি ফসল চাষ করতে পারবেন কিনা সেটাই প্রশ্ন। তবে হোম কোয়ারেন্টাইন করার সময় স্থানীয় পঞ্চায়েত সচিব ও পঞ্চায়েত প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উনাদের হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে কোনো অসুবিধা হবে না। পঞ্চায়েত পক্ষ থেকে তাদেরকে খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে ও বাড়ির পাশে থাকা জলের সাপ্লাই কানেকশন থেকে পাইপ লাগিয়ে বাড়িতে পানিয় জলের কানেকশন দেওয়া হবে, এমনটাই প্রতিশ্রুতি ছিল পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের। 


কিন্তু ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও  জলের কানেকশন না খাদ্য সামগ্রী কিছুই জুটল না এই দুই পরিবারের। তবে  সহানুভূতি দেখাচ্ছেন পাড়া-প্রতিবেশী ও আশপাশের সাধারণ মানুষ। আজ দুজন বিশিষ্ট সমাজসেবী হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা দুই পরিবারকে চাল ডাল সহ কিছু খাদ্য সামগ্রী দেন এবং আগামী দিনেও ওই পরিবারের পাশে থাকবেন বলেও আশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি এলাকাবাসী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এবং কোয়ারেন্টাইনে থাকা দুটি পরিবারের সরকারি সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছেন। এখন দেখার বিষয় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন পরিবারের দিকে কতটুকু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।



কোন মন্তব্য নেই