HeadLogo

উদ্বোধন হল অটল সেতু ও তিলথৈতে ২০ শয্যার স্বাস্থ্য কেন্দ্র - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০  
মঙ্গলবার

ধর্মনগর প্রতিনিধিঃ তিলথৈ  প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের  নবনির্মিত দালান বাড়ি  ও  যুবরাজ নগর ব্লকের অন্তর্গত  জুড়ী নদীর উপরে তৈরি অটল সেতুর  শুভ উদ্বোধন করতে ধর্মনগর সফরে এলেন  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। ধর্মনগরে এসে সোমবার প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী উত্তর ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত যুবরাজনগর ব্লকের অধীনস্থ নবনির্মিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট তিলথৈতে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের শুভ দ্বারোদ্ঘাটন করেন। যা উত্তর জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের একটি নতুন ধাপ। যা থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্লক এলাকার জনগণ। তিলথৈ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের  উদ্বোধন শেষে মুখ্যমন্ত্রী নবনির্মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন। উক্ত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষ তথা ধর্মনগরের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পানিসাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস, রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব জে.কে সিনহা, উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা নাগেশ কুমার, উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলা সভাধিপতি ভবতোষ দাস, যুবরাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শ্রীপদ দাস প্রমুখ। 

পরবর্তীতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব  সেখান থেকে চলে যান যুবরাজনগর-দেওছড়া রাস্তায় জুরি নদীর উপর নির্মিত অটল সেতুর শুভ উদ্বোধনে। সেখানেও উনার সাথে উপস্থিত উত্তর জেলার শাসক দলের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে শাসক দলের নেতৃত্বরাও সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে নবনির্মিত এই অটল সেতুর শুভ  উদ্বোধনের ফলে উপকৃত হবেন যুবরাজনগর ব্লক এলাকার জনগণ। এরপর  মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব কর্তৃক ২টি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে  দেওছড়ায় এলাকায় একটি সুবিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় গোটা উত্তর জেলা থেকে প্রচুর সংখ্যক জনগনের  উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাথে  ধর্মনগরের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন, পানিসাগরের বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, জেলাশাসক নাগেশ কুমার,জেলা সভাধিপতি ভবতোষ দাস,সমাজসেবী যাদব লাল দেবনাথ সহ অন্যান্যরা যোগ দেন। 


জনসভায় আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য,কৃষি,কর্মসংস্থান সবক্ষেত্রেই অন্য দিশা নিয়ে চলছে রাজ্য সরকার। তিনি আরো বলেন পূর্বে ত্রিপুরার কৃষকরা কিষান ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে জানতেনই না। কিন্তু এখন এ ব্যাপারে সবাই অবগত। আগে ক্ষেত মজুরের নামে সরকার চললেও তাঁদের জন্য কিচ্ছু করেনি পূর্বতন বাম সরকার। শুধুমাত্র আন্দোলনের পাঠদান করেছেন জনগণদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি যেভাবে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দিচ্ছেন তাতে এখন সেই কমিউনিস্টরা ভয় পাচ্ছে। কারণ কমিশন খাওয়ার দিন চলে গেছে। এখন ত্রিপুরায় কাজ করে খেতে হবে। কমিশনের রাজনীতি চলবে না। কৃষকদের জন্য একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা লাগু হয়েছে তেমনি মুখ্যমন্ত্রী ফসলবীমা যোজনাও কার্যকর হয়েছে। ১২৫২ হেক্টর জমিকে হাইব্রিড ফসলের ক্ষেত করা হয়েছে। আগামী দুবছরের মধ্যে গোটা নর্থ-ইস্টে সেই বীজ সরবরাহ করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। একটা সময় ছিল ত্রিপুরাকে কেউ চিনত না কিন্তু বর্তমানে এ রাজ্যে কুইন পাইনাপেল এর চাষ হচ্ছে এই পাইনাপেল রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। ফলে দেশের সাথে সাথে ত্রিপুরা পরিচিতি লাভ করেছে গোটা বিশ্বের দরবারে। বর্তমানে ত্রিপুরাতে বাঁশকুড়োলের বিস্কুট তৈরি হতে শুরু করেছে। যা এ রাজ্যকে নতুন দিশা দেখাবে আগামী দিনে। সোমবার দেওছড়ার জনসভায় সুপারি গাছের খোল দিয়ে তৈরি থালা,বাটি মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দেন ধর্মনগর নোয়াগাংএর  বাসিন্দা রুবেন রাংলং। মূলত আত্মনির্ভর প্রকল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে সুপারি গাছের খোলা দিয়ে তৈরি থালা বাটি তৈরি করে স্বনির্ভরের পথে উত্তর জেলার নোয়াগাংয়ের বাসিন্দা রুবেন রাংলং। 


সোমবার যুবরাজনগরের দেওছড়াতে অনুষ্ঠিত মুখ্যমন্ত্রীর জনসভাতে এসে নিজ হাতেই সুপারি গাছের খোলা দিয়ে তৈরি থালা-বাটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের হাতে উপহার স্বরূপ তুলে দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী  রুবেন রাংলং-র এই উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ  জানান। পাশাপাশি তাঁর এই উদ্যোগে রাজ্যের লোকেরা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। রুবেন রাংলং  সহ রাজ্যের বর্তমান যুবকদের প্রেরণা দিতেই মুখ্যমন্ত্রী তার আলোচনার মধ্যে তুলে ধরেন যে বর্তমানে বহু যুবক আত্মনির্ভর ভারতের প্রকল্পে নিজের উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে হাঁটছে। আগে এ রাজ্যের যুবকরা সরকারি চাকরির অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকত।কিন্তু বর্তমানে এ রাজ্যের যুবকরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে শিখেছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দিক গুলো তাদের আলোচনার মাধ্যমে  তুলে ধরেন।

কোন মন্তব্য নেই