HeadLogo

ইচি পোকার আক্রমণে চরম সংকটে ত্রিপুরা অসম সীমান্তের ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষক - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
০৯ অক্টোবর ২০২০ 
শুক্রবার

চুরাইবাড়ি প্রতিনিধিঃ উত্তর জেলার কদমতলা ব্লকাধীন ত্রিপুরা অসম সীমান্তের ১০ টি পঞ্চায়েতের স্থানীয় কৃষকদের ধানক্ষেতে ইচি পোকার সন্ত্রাস দেখা দিয়েছে।মূলত ঐ সকল গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কৃষি ক্ষেতের উপর নির্ভরশীল। বিগত দেড় থেকে দুই মাস যাবত কৃষকদের ধানের চারা গাছে ইচি পোকা এসে সবুজ চারা গাছকে খেয়ে সাদা করে দিচ্ছে। ইচি পোকা খানিকটা মাছির মতো দেখতে হলেও গায়ে মাছি থেকে অনেকটা ছোট। এই পোকাটি ধানের চারা গাছে বসার ৪৮ ঘন্টার ভেতর ধানের সবুজ চারা গাছকে খেয়ে সাদা করে দিচ্ছে। ইচি পোকার আক্রমণ শুরুর সাথে সাথে কদমতলা ব্লকাধীন ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কদমতলা কৃষি মহাকুমার তত্ত্বাবধায়ক শরদিন্দু নারায়ন দত্তের শরণাপন্ন হন। কৃষকদের এমন দুরবস্থা কথা শুনে কদমতলা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক তড়িঘড়ি কৃষিজমি পরিদর্শন করেন।


কৃষি জমি পরিদর্শন করে কৃষি তত্ত্বাবধায়ক স্থানীয় কৃষকদের আশ্বস্ত করেন যে, কদমতলা কৃষি মহাকুমার সকল অধিকারীক সর্বদা কৃষকদের সাথে রয়েছেন।পাশাপাশি কৃষি তত্ত্বাবধায়ক শরদিন্দু নারায়ণ দত্ত ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩২৭ জন কৃষকদের মধ্যে ইচি পোকা মারার ঔষধ, স্প্রে মেশিন প্রদান করেন। তাছাড়া প্রতিদিন স্থানীয় ৩২৭ জন কৃষকদের ১৬৭ অ্যাক্টর কৃষি জমিতে কদমতলা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক সহ সকল কৃষি আধিকারিক কৃষকদের সাথে মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।কিভাবে ঔষধ দিতে হয় সহ সকল পদ্ধতি কৃষকদের দেখিয়ে দিচ্ছেন ও কিভাবে ইচি পোকার হাত থেকে অত্র এলাকার কৃষকদের কৃষিজমি রক্ষা করা যায় তা নিয়ে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কদমতলা কৃষি দপ্তরের সকল কৃষি আধিকারিকরা। 


এদিকে ত্রিপুরা অসম সীমান্তের স্থানীয় ব্লকের তারক পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক জানান, দেড় থেকে দুই মাস যাবত পূর্বে ইচি পোকা উনাদের কৃষিজমিতে আক্রমণ শুরু করেছে। আক্রমণের সাথে সাথে কদমতলা কৃষি মহাকুমার তত্ত্বাবধায়কের সাথে আলোচনা করলে সেখান থেকে তাদের ঔষধ ও স্প্রে মেশিন প্রদান করা হয়। উনারা নিয়মিত ঔষধ ধানের চারা গাছে দিয়ে আসছেন। প্রতিদিন কদমতলা কৃষি মহাকুমার আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি জমিতে সরজমিন পরামর্শ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে ইচি পোকার ঔষধটি তেমন ভাবে পোকা দমন করতে পারছে না। তাছাড়া তারকপুর এলাকাটি ত্রিপুরা অসম সীমান্ত ঘেষা তাই ত্রিপুরা সীমান্তে ধানের চারা গাছে ইচি পোকার ঔষধ দেওয়া হলে চারা গাছে থাকা ইচি পোকা মারা যাচ্ছে অথবা পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমের কৃষিজমিতে সরে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার কৃষিজমির চারা গাছের ইচি পোকা মারার ঔষধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় অসমের কৃষি জমি থেকে উড়ে এসে রাজ্যের ঐ সকল কৃষি জমিতে তাণ্ডব চালাচ্ছে। 


সুতরাং ইচি পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির কৃষকরা স্থায়ী সমাধান চাইছেন। অপরদিকে কদমতলা কৃষি মহাকুমার তত্ত্বাবধায়ক শরদিন্দু নারায়ণ দত্ত ও এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর অলক পাল জানান, যেদিন থেকে কদমতলা ব্লক এলাকার কৃষকদের কৃষি জমিতে ইচি পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে সেই দিন থেকে উনারা কৃষকদের সাথে কৃষিজমিতে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। কৃষকদের প্রদান করেছেন স্প্রে মেশিন ও ক্লোরোপাইরিফস টুয়েন্টি ইসি ঔষধ। বর্তমানে কদমতলা ব্লকাধীন ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩২৭ জন কৃষকের ১৬৭ অ্যাক্টর কৃষি জমি ইচি‌ পোকা খেয়ে নিয়েছ। তবে প্রয়োজনমতো সঠিক ঔষধ দেওয়াতে ধানের চারা গাছ আবারো মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমের কৃষিজমি থেকে এসে সীমান্ত এলাকার ধান গাছে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তাই সীমান্ত এলাকার কৃষি জমি থেকে পুরোপুরিভাবে ইচি পোকা দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। কদমতলা কৃষি তত্ত্বাবধায়ক ও এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর আরো বলেন, ইচি পোকার আক্রমণ উত্তর জেলা জুড়ে দেখা দিলেও অন্য কোন জেলাতে এই পোকার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয় ত্রিপুরা অসম সীমান্তের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি কি ভূমিকা পালন করে রাজ্য সরকার।

কোন মন্তব্য নেই