HeadLogo

বিয়ের সাড়ে সাত মাসের মাথায় স্বামী ও শশুর শাশুড়ির অত্যাচারের শিকার গৃহবধু - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
১৪ আগষ্ট ২০২০
শুক্রবার

বক্সনগর প্রতিনিধিঃ সােনামুড়া থানাধীন উমাই বড়পাথর গ্রামের জহিরুল ইসলাম প্রায় সাড়ে সাত মাস আগে সামাজিক ও মুসলমানদের নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে করে একই থানাধীন বলেরডেপার মেয়ে নাজমা বেগমকে। দাবি ছিল এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দামের একটি মােটর বাইক দিতে হবে বরকে। আর কন্যাকে দিতে হবে এক ভরি ওজনের সােনার চেইন। ফলে মেয়েকে সােনার চেইন সহ বরকে তিন আনা ওজনের একটি সােনার আংটিও দেওয়া হয় এবং প্রায় চার লক্ষ টাকার মতাে খরচ করে নাজমা বেগমকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়েটির বাড়ির লােকজনের একটা বিশেষ অনুরােধ ছিল টাকার অভাবে বিয়ের সময়ে বাইকটি দেওয়া সম্ভব হবে না তবে বিয়ের এক বছরের মধ্যে দিয়ে  দেওয়া হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই মেয়েটি মাত্র সাড়ে সাত মাস সময়েই  স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে গেলাে। 


এক বছরের মধ্যে যৌতুকের বাইকটি দেওয়া হবে এই কথাটি বিয়ের মাত্র সাতদিনের মধ্যে ভুলে যায় সুধন্য স্বামী।  তার লোভ এতটাই প্রকট হয়ে যে একটা বাইকের জন্য  মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার প্রবলভাবে চালাতে থাকে নাজমার উপর। তাছাড়া একাধিকবার সামাজিক বৈঠক হয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে।কিন্তু  বিচারকদের সকল প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ভাবে বিফলে যায়। সর্বশেষ ঘটনা ঘটানাে হয় ৬ আগষ্ট ২০২০ ইং বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় নয়টা নাগাদ। কাপড় পরিবর্তন করা অবস্থায় মারধর করে পরনে থাকা কাপড়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে স্বামী তখন নাজমা কোনক্রমে নিজেকে রক্ষা করে।  


এরপর রাত প্রায় দশটা নাগাদ  বাড়ি ফিরে স্বামী জহিরুল ঘরে ঢুকেই স্ত্রী নাজমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। সারাদিনের অভুক্ত নাজমা প্রতিবাদ করা মাত্রই চুলের মুটিতে ধরে নির্মমভাবে মারধাের করতে থাকে। তবে একটা সময় মারতে মারতে ঘরের দেয়ালে কপাল ঠুকাতে শুরু করে এবং কয়েকবার ঠকানাের পরেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে নাজমা।সারা রাত অজ্ঞান অবস্থায় থাকার পর  বৃহস্পতিবার অর্থাৎ পরদিন সকালে জহিরুল এর বাড়ির পাশের একজন লোক নজিমার মার কাছে ফোন করে জানায় যে নাজমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তিনি গিয়ে যেন মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সংবাদ পাওয়ার পরেই হনুফা খাতুন নিরুপায় হয়ে উরমাই গ্রামের উপপ্রধান মনির হােসেনকে ঘটনাটি জানালে তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের অপর এক সদস্য জামাল হােসেনকে নিয়ে জহিরুল এর বাড়িতে যান এবং নাজমার অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে মেলাঘর হাসপাতালে পাঠানাের ব্যবস্থা করেন গ্রাম প্রধান। ততক্ষণে মা এসে  দেখেন মেয়ের চিকিৎসা চলছে। আর মাকে  দেখে হাসপাতাল থেকে গা ঢাকা দেয় স্বামী , শ্বশুর ও শাশুড়ি। বেলা প্রায় বারােটা নাগাদ জ্ঞান ফিরে আসে নাজমার। তখনই মেয়ের মুখ থেকে নির্মমতার বিবরণ জানতে পারেন মা হনুফা খাতুন। 


পরবর্তী সময়  সােনামুড়া থানায় লিখিত অভিযােগ দায়ের করেন মা হনুফা খাতুন  কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল যে মা নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আজ প্রায় চার দিন অতিক্রম হয়ে গেছে এখনো আসামি‌ গ্রেপ্তার করতে ব্যার্থ সোনামুড়া থানার পুলিশ, এই নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নির্যাতিত গৃহবধূর মা  হনুফা ও এলাকার বিশিষ্ট জনেরা। উনার দাবি তার মেয়ে উপর যে অত্যাচার হয়েছে তা যেন সুষ্ঠু বিচার হয় এবং আর যেন কোন মায়ের মেয়ের সাথে এরকম কেউ না করতে পারে তার জন্য আবেদন রাখেন প্রশাসনের কাছে।  এখন দেখার বিষয় কি ভূমিকা পালন করেন সোনামুড়া থানার পুলিশ। অন্যদিকে  গৃহবধূ   এখনো পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায়  হাসপাতালে ভর্তি।



কোন মন্তব্য নেই