তেলিয়ামুড়ার জনৈক ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধে বনদপ্তরের জায়গা দখলের অভিযোগ - Sabuj tripura

সবুজ ত্রিপুরা 
১১ আগস্ট
বুধবার

তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধিঃ- তেলিয়ামুড়া বাজারের জনৈক ব্যাবসায়ী শাসক দলের এক নেতাকে ম্যানেজ করে তেলিয়ামুড়া  বনদপ্তরের জায়গা আত্মসাৎ করার অভিযোগ নিয়ে বিগত কিছুদিন পূর্বে সংবাদ 

পরিবেশন করা হয়েছিল। বনদপ্তর থেকে তেলিয়ামুড়া বাজারের প্রতিষ্ঠিত ঐ জনৈক ব্যাবসায়ীকে বার-বার সতর্ক করার পরেও ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মন্ডল স্তরের নেতা এবং গামাইবাড়ি গ্রাম 
পঞ্চায়েতের প্রধানের ছত্রছায়ায় এসে নেতার ক্ষমতা জাহির করে সরকারি নির্দেশ কে শুকনো কলা পাতা বানিয়ে জনৈক ব্যাবসায়ী সরকারি জায়গা আত্মসাৎ করে বসে রয়েছে বলে অভিযোগ। তবে 
বনদপ্তর থেকে বারবার ওই ব্যাবসায়ীকে সরকারি জায়গা দখল মুক্ত করার জন্য নোটিশ পাঠালেও ওই ব্যবসায়ী জনাকয়েক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসে সরকারি নির্দেশ কে আমল দিচ্ছে না বলে জানা যায়।যদিও তেলিয়ামুড়া বনদপ্তর কোনো এক অজ্ঞাত কারণে মুখ খুলতে নারাজ।

তবে সূত্রের খবর, তেলিয়ামুড়া বাজারের প্রতিষ্ঠিত ওই ব্যাবসায়ী জনাকয়েক বিজেপি নেতাদের কে প্রচুর অর্থ রাশি প্রদান করেছে বলে জানা যায়।

এখন তেলিয়ামুড়া বনদপ্তর ওই জনৈক ব্যাবসায়ীর বিরুদ্ধেকড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তেলিয়ামুড়া বনদপ্তর সূত্রের খবর। তবে জনৈক ওই ব্যাবসায়ী এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে নেতা সহ সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের ম্যানেজ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সূত্র মারফত জানা যায়।

তবে আসল বিষয় হলো,তেলিয়ামুড়া বাজারের ওই ব্যবসায়ী যে জায়গা ক্রয় করেছে সেই জায়গায় যাতায়াতের কোনো  রাস্তার  ব্যবস্থা নেই। সেক্ষেত্রে তেলিয়ামুড়া বনদপ্তরের জায়গাকে রাস্তা হিসেবে ব্যাবহার করে ওই গুণধর ব্যাবসায়ী  সরকারি জায়গা আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করছে বলে খবর।

এদিকে এই বনদপ্তরের জায়গাগুলিতে এলাকার কিছু গরিব অংশের মানুষজন কৃষি কাজ করে নিজেদের জীবন-জীবিকা প্রতিপালন করতো। কিন্তু ওই ব্যাবসায়ী সরকারি বনদপ্তরের জায়গায় মাটি ফেলে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করায় এলাকায় বসবাসকারী কৃষকদের পেটে লাথি পড়ছে। যদিও ওই গরিব অংশের কৃষক শ্রেণীর মানুষজন লিখিতভাবে কোন অভিযোগ জানায়নি।তবে মৌখিকভাবে স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং বনদপ্তর কে অবগত করা হয়েছে এই বিষয়ে।

তেলিয়ামুড়া বনদপ্তর থেকে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে সরোজমিনে প্রত্যক্ষ করে আসে জায়গাটি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে তেলিয়ামুড়া ফরেস্ট অফিসার টুটন দেবনাথ গামাইবাড়ি পঞ্চায়েতের প্রধানকে ফোনকরা হলে তিনি অনেকটা আমতা আমতা করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন।

     

তবে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ওই মন্ডল নেতার বিরুদ্ধে বিজেপি জেলা সভাপতির নিকট লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দল ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তবে এই মন্ডল স্তরের নেতার যে সাঙ্গো পাঙ্গ রয়েছে তারাও অনেক অপকর্মের সাথে জড়িত বলে খবর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গত কিছুদিন পূর্বে বিজেপি দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া তথা মহারানীপুর কপালিটিলা এলাকার নাবালিকা ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শ্যামল সরকার।

তবে যাইহোক সরকারি জায়গা আত্মসাৎ করার বিষয়ে তেলিয়ামুড়া বনদপ্তর তেলিয়ামুড়া বাজারের জনৈক ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Close Menu