HeadLogo

অবশেষে প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়ি সহ একাধিক সমস্যা নিয়ে মুখ খুললেন স্টেশন ইনচার্জ - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
০৫ ডিসেম্বর ২০২০  
শনিবার

চুরাইবাড়ি প্রতিনিধিঃ অবশেষে সংবাদের শিরোনাম দখল করা প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়ি সহ একাধিক সমস্যা নিয়ে মুখ খুললেন স্টেশন ইনচার্জ। অকপটে স্বীকার করলেন ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়িটি কমলপুর গিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ফায়ার কলের বড় একটি গাড়ি দিয়ে স্টেশনটি চলছে। যেকোনো সময় অত্র এলাকায় বড়ধরনের দুর্ঘটনা সংঘটিত হলে গাড়ির জন্য তা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হবে প্রেমতলা ফায়ার স্টেশন। দাবি করেন আরও ফায়ারম্যান ও আরেকটি ফায়ার ট্যাংকার গাড়ির। উত্তর জেলার কুর্তি কদমতলা ও বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রে ছোট বড় বেশ কয়েকটি গ্রাম ও বাজার নিয়ে রয়েছে একটি মাত্র ফায়ার স্টেশন। সেটি হলো প্রেমতলা ফায়ার স্টেশন। 


এই ফায়ার স্টেশনে যেমন রয়েছে গাড়ির সমস্যা তেমনি রয়েছে ফায়ারম্যানের স্বল্পতা।গত ২৯ নভেম্বর প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়িটি আইসিডিএফও কুন্তল দেববর্মা কমলপুরে নিয়ে গিয়ে দুর্ঘটনা সংগঠিত করেছেন বলে জানা যায়। কমলপুরের সেই দুর্ঘটনার স্থান থেকে প্রথমে মনু ফায়ার স্টেশনে আনা হয় প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়িটি। তারপর সেখান থেকে কুন্তল দেববর্মা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি মেরামতি করার জন্য কৈলাশহর একটি গ্যারেজে নিয়ে আসেন। বর্তমানে সেই গ্যারেজে সরকারি গাড়ির মেরামতি চলছে। সেই সকল বিষয়ে প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ কৌষিক কর কে স্টেশনে ছোট গাড়িটি নেই কেন সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, উনার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ আইসিডিএফও কুন্তল দেববর্মা অফিশিয়ালি কাজের জন্য প্রায়ই প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়িটি নিয়ে থাকেন। 


ইদানিংকালেও নিয়ে গিয়েছিলেন আর সেটি কমলপুরে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। কিন্তু প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়িটা ছাড়াও যে আরো গাড়ির প্রয়োজন রয়েছে তা অকপটে স্বীকার করেন। ইনচার্জ আরো বলেন এই ছোট গাড়িটি না থাকায় উনাদের চরম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে পরপর দুটি এক্সিডেন্ট অথবা ফায়ার কল আসলে দুটি জায়গায় যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ বর্তমানে ফায়ার স্টেশনের একটি মাত্র গাড়ি রয়েছে।আর ফায়ার কলের যে বড় গাড়িটি রয়েছে সেটি দিয়ে কুর্তি কদমতলা ও বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের গ্রামাঞ্চলের রাস্তা দিয়ে যাওয়াটা দুষ্কার্য। উনি বলেন যেকোনো সময় অত্র এলাকায় বড়ধরনের দুর্ঘটনা সংঘটিত হলে গাড়ির জন্য তা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হবে প্রেমতলা ফায়ার স্টেশন। তাছাড়া আরেকটি ফায়ার কলের গাড়ি ও ফায়ারম্যানেরও দাবি জানান স্টেশন ইনচার্জ কৌষিক কর। 


এদিকে স্থানীয় দুই বিধানসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শুধু ফায়ার কলের জন্য ব্যবহৃত বড় একটি গাড়ি দিয়ে দমকল দপ্তরের আধিকারিকরা বর্তমানে সমস্ত কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। সীমান্ত ঘেষা দুটি বিধানসভার এত মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বিস্তীর্ণ এলাকার ফায়ার স্টেশনে দমকল দপ্তরের আধিকারিকরা একটিমাত্র গাড়ি দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন।স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে বলেন, দমকল দপ্তরের বামমার্গীয় এক আধিকারিক প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়িটি অফিসের কাজের নাম করে উনার ব্যক্তিগত কাজে নিয়ে যান। অনুরুপ বিগত ২৯ নভেম্বর প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ছোট গাড়িটি নিয়ে গিয়ে কমলপুর এলাকায় এক্সিডেন্ট করেছেন। 


তাছাড়া বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একটিমাত্র ফায়ার স্টেশন আর সেই স্টেশনে দুটিমাত্র গাড়ি রয়েছে, সেখান থেকে কিভাবে আইসিডিএফও প্রতিনিয়ত ছোট গাড়ি নিয়ে যান তা নিয়েও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি প্রেমতলা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ কৌশিক করের খামখেয়ালিপনার সুযোগ নিয়ে আইসিডিএফও উনার মর্জিমাফিক প্রেমতলা ফায়ার স্টেশন থেকে সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি উনার ব্যক্তিগত কাজে নিয়ে যাচ্ছেন। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারন জনগনকে। সুতরাং স্থানীয়দের জোরালো দাবি অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের উর্দ্ধতন আধিকারিক এর বিহিত ব্যবস্থা করুক অন্যথায় আগামী দিনে দুটি বিধানসভার স্থানীয় জনগণ বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করবেন।

কোন মন্তব্য নেই