HeadLogo

নেশা কারবারিদের ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মী - Sabuj Tripura News

সবুজ ত্রিপুরা
১৮ জুন, ২০২০
বৃহস্পতিবার

চুরাইবাড়ি প্রতিনিধিঃ নেশা বিরোধী অভিযান করতে গিয়ে নেশা কারবারিদের ধারালো ছুরির এলোপাতাড়ি আঘাতে গুরুতরভাবে আহত গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মী। গুরুতরভাবে আহত গোয়েন্দা পুলিশের নাম জিএম উদ্দিন। ঘটনা সংঘটিত করে ঘটনাস্থল থেকে নেশা কারবারিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে তাদের কাছ থেকে দুই প্যাকেট ২৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।ঘটনা চু্রাইবাড়ি থানাধীন লক্ষীনগর ২ নং ওয়ার্ডে। ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার চুরাইবারি থানাধীন লক্ষীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ, চু্রাইবাড়ি থানার পুলিশ ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রাজিব সূত্রধর নেশা বিরোধী অভিযানের জন্য উৎ পেতে বসে থাকেন। বেলা ঠিক ২:৩০ মিনিট নাগাদ লক্ষীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২নং ওয়ার্ডের প্রেমতলা গৌরীপুর সড়কের উপর ৪/৫ জনের নেশা কারবারীদের একটি দলকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের ৩ জন কর্মী। তখন চু্রাইবাড়ি থানার পুলিশ ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ঐস্থান থেকে বেশ কিছুটা দূরে অবস্থান করছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মীরা নেশা কারবারিদের পথ আটকিয়ে ২ প্যাকেট ব্রাউন সুগার তাদের হাতে নেওয়ার সাথে সাথে নেশা কারবারিদের দলটি গোয়েন্দা পুলিশের উপর আক্রমণ চালায়।

গোয়েন্দা পুলিশের সত্যেন্দ্র নাথ, মহেন্দ্র নাথ তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে গেলেও অপর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মী জি এম উদ্দিনকে প্রচন্ড মারপিট করে রাস্তা থেকে পাশের সুলেমান আলীর বাড়িতে নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেঠ ও পিঠে গভীরভাবে আঘাত করে। তখন গুরুতরভাবে আহত গোয়েন্দা পুলিশ কর্মী জিএম উদ্দিন প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখে চিৎকার করলে আশপাশে জনগণ ছুটে এলে গোয়েন্দা পুলিশ কর্মীকে ফেলে ৪/৫ জনের নেশা কারবারির দলটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

ততক্ষনে ঘটনার খবর পেয়ে চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ ও মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক রাজীব সূত্রধর ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর ভাবে আহত গোয়েন্দা পুলিশ কর্মীকে কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোয়েন্দা পুলিশ কর্মী জিএম উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।

অপরদিকে স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, উনারা চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে এসে দেখতে পান ৪/৫ জনের একটি দল গোয়েন্দা পুলিশ জিএম উদ্দিনকে মারপিট করছে ও এলোপাতাড়িভাবে ছুরি দিয়ে আঘাত করছে। তখন তারা চিৎকার চেঁচামেচি করলে ঘটনাস্থল থেকে ওই দলটি পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা ওই দলে থাকা শিহাব আলি, সুলেমান আলিকে চিনতে পারলেও অপর তিন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেনি। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী নেশা কারবারি দলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ওই জায়গায় এসেছিল। তিন জনের একটি দল এসেছিল মারুতি এইট হান্ড্রেড কার দিয়ে। শিয়াব আলি এসেছিল তার মোটর সাইকেল নিয়ে। আর সুলেমান আলি সে তার নিজ বাড়িতেই ছিল। অবশ্য চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ একটি TR05A/6483 নম্বরের লাল রঙ্গের এচিভার  বাইক উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ধারায় চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ একটি মামলা হাতে নিয়ে অভিযুক্তদের জালে তুলতে মাঠে নেমে পড়েছে। 

উত্তর জেলায় এর পূর্বে জেলার পুলিশ প্রশাসন নেশা বিরোধী অভিযানে সাফল্য কুড়িয়েছে। কিন্তু নেশা বিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথমবার ঘটল সুতরাং উত্তর জেলার পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনাটির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছে।

কোন মন্তব্য নেই