HeadLogo

প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জনতা কার্ফুকে তুয়াক্কা না করে ধর্মনগরে মদের ব্যবসা, দোকান সিল


সবুজ ত্রিপুরা, নিজস্ব প্রতিনিধি, ২৩ মার্চ : করোনা মহামারিতে গোটা পৃথিবী এখন আতঙ্কিত।ক্রমাগত ভারতেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।তড়িত গতিতেই বাড়ছে করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা। তাই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার সতর্কতা মূলক  জনতা কার্ফুর আহ্বান করেছিলেন।রবিবার সকাল থেকেই দেশ বাসি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিজেকে গৃহ বন্দি রেখে জনতা কার্ফু পালন করছিলো।দেশের সাথে সাথে ধর্মনগর বাসিও সকাল থেকেই এই জনতা কার্ফুর সমর্থনে অধিকাংশই গৃহবন্দি থাকলেও সন্ধ্যার পরে শহরে বেশ কিছু উঠতি বয়সের যুবকের অবাধ চলাচল জনতা কার্ফুর চিত্রটা একটু বদলে দেয়। বাধ্য হয়ে উত্তরের পুলিশ সুপার সহ অধিকাংশ পুলিশ কর্তারা রাস্তায় নামে জনতা কার্ফুকে সফল করে তুলতে।এরি মধ্যে পুলিশের নজরে পরে সরকারি নির্দেশে জারি করা ১৪৪ ধারা ও প্রধান মন্ত্রীর অনুরোধ কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ধর্মনগর পুরনো মোটর স্টেন্ডের সরকারি বরাদ প্রাপ্ত  ৪ নম্বর বিলেতি মদের দোকানে চলছে অবাধে মদ বিক্রি।সঙ্গে সঙ্গে ধর্মনগর থানার পুলিশ কতৃপক্ষ এই বিলেতি মদের দোকানে অভিযান চালাতেই মদের দোকানে ভিড় জমানো প্রায় অর্ধশতাধিক মদের ক্রেতারা পালায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কয়েকজন ক্রেতাকে আটক করেন। এদিকে দোনাকের মালিক কালিপদ রায় দোকানের দরজা বন্ধ করে দোকানে ঢুকে পরেন। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উত্তর ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী। খবর দেওয়া হয় আবগারি দপ্তরকে । আসেন আবগারি দপ্তরের ইনচার্জ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। আবগারি দপ্তরের ইনচার্জ এসে বিলেতি মদের দোকানের মালিক কালিপদ রায়কে বহুবার দোকান থেকে বেরিয়ে  আসার অনুরোধ করেন কিন্তু কালীপদ বাবু কোনই উত্তর দেন নি। বাধ্য হয়ে খবর দেওয়া হয় ধর্মনগরের এসডিএম বি ডি ডার্লং ও ডিসি মানিক চক্রবর্তী। পুলিশ সহ প্রশাসনের একাধিক কর্তাব্যক্তিরাও দোকানের বাইরে থেকে বহু ডাকা ডাকির  প্রায় তিন ঘন্টা পর ধর্মনগর ৪ নম্বর বিলেতি মদের দোকানের মালিক কালিপদ রায় দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন। 


উপস্থিত আধিকারিকরা উনার কাছে দোকান খোলার কথা জানতে চাইলে কালিপদ বাবু দোকান খোলেননি বলে মিথ্যের আশ্রয় নেন।কিন্তু পুলিশ বাবুদের জবাবে উনার অপরাধ প্রকাশ্যে ধরা পরে যায়। অবশেষে উপস্থিত ধর্মনগর মহকুমা শাসক , ডিসি এবং আবগারি দপ্তরের অধিকর্তার উপস্থিতিতেই ধর্মনগর পুরনো মটরস্টেন্ডের ৪ নম্বর  বিলেতি মদের দোকানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সিল করে দেওয়া হয়। মহকুমা শাসক জানান সরকারি বরাদ প্রাপ্ত দোকানটির বিরোদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 


গোটা রাজ্যেই ১৪৪ ধরা জারি থাকার পরেও ক্রেতাদের ভিড় জমিয়ে এভাবে বিলেতি মদের ব্যবসা করা নিয়ে কালিপদ রায়ের বিরুদ্ধে যেমন  নিন্দা হচ্ছে ঠিক তেমনি একটি মরন ব্যাধি রোধে দেশের প্রধান মন্ত্রীর অনুরোধকে তোয়াক্কা না করে অর্থাৎ অসম্মান করে রবিবার মদ বিক্রি করার বিষয় নিয়ে এই মদের দোকানের মালিক কালিপদ রায়ের বিরুদ্ধে চারিদিকে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এখন এটাই দেখার প্রশাসন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

কোন মন্তব্য নেই