HeadLogo

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান জারি, এবার গ্রেফতার পঞ্চায়েত সচিব


সবুজ ত্রিপুরা, নিজস্ব প্রতিনিধি, ১১ নভেম্বর: রাজ্যে ২৫ বছরের সরকার পরিবর্তন হতেই দুর্নীতির বিভিন্ন গোপন চিত্র একে একে উঠে আসছে জনসমক্ষে। ইতিমধ্যে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিপ্লব কুমার দেব কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দুর্নীতির সাথে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালিত হতেও দেখা যাচ্ছে।
উত্তর ত্রিপুরা জেলার কালাছড়া ব্লকের অন্তর্গত ভাগ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সচিব আব্দুল হাফিজকে গতকাল সরকারী অর্থ নয়ছয়ের দায়ে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাকে শনিবার ধর্মনগর সাকাইবাড়ি স্থিত তার নিজ বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে আব্দুল হাফিজ পানিসাগর আর ডি ব্লকে কর্মরত ছিলেন। গত ২২ অক্টোবর কালাছড়া ব্লকের আধিকারিক শ্রী তরণি কান্ত সরকার আব্দুল হাফিজের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে ধর্মনগর থানায় মামলা দায়ের করতেই অতি সত্বর আব্দুল হাফিজকে ভাগ্যপুরের পঞ্চায়েত সচিবের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পানিসাগর আরডি ব্লকে নিয়ে আসা হয়। এরপর গতকাল শনিবার ৯ই সেপ্টেম্বর পুলিশ আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে।
বর্তমানে ভারতীয় দন্ডবিধির ১২০ বি, ৪৬৮/৪২০/৪০৯/৪০৩ ধারায় মমলা চলছে। ডি এস পি হেড কোয়াটার, শ্রী ডি ডার্লং মামলাটির তদন্তকারী অফিসার হিসাবে নিযুক্ত হয়ে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছেন। উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত সচিব আব্দুল হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি ভাগ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের  স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের ৪ লক্ষ ৮ হাজার ১৬ টাকা কোন ধরনের নির্দেশ ছাড়াই গত অক্টোবর মাস থেকে তুলে নিয়ে ব্যয় করেন। কিন্তু পরবর্তী সময় ধরা পড়ে ঘটনার বেগতিক দেখে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে দেন বলে সুত্রের খবর। সরকারী টাকা কোনও ধরনের বিল পাস না করিয়ে তুলে নেওয়া ভারতীয় ফৌজদারী আইন উলঙ্ঘনের অন্তর্গত একটি অপরাধ। এদিকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বাম আমল থেকেই অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
হয়তো তখনকার শাসক দলকে বাঁকাপথে সন্তুষ্ট করে একের পর এক দুর্নীতি তিনি করে গেছেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হতেই এতকাল ধরে গোপন করে রাখা তার চুরি সকলের সম্মুখে এলো। এবার তার স্থান হয়েছে শ্রীঘরে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই উত্তর জেলায় আরও বেশ কিছু আমলাদের দুর্নীতিও কিছু দিনের মধ্যে সর্বসমক্ষে প্রকাশিত হবে।


কোন মন্তব্য নেই