HeadLogo

স্বস্তি সমবায় সমিতি : ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম নিবন্ধিত সংস্থা


সবুজ ত্রিপুরা, ৮ মার্চ : ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম রেজিস্ট্রিকৃত সংস্থা হলো স্বস্তি সমবায় সমিতি (রেজি নং-১)১১ই এপ্রিল, ১৯৪৯ সালে এই সমিতি ত্রিপুরা কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে রেজিস্ট্রেশন পায়।

          দেশভাগের পর তৎকালীন জনজীবনের উপর এর প্রভাব, ভবিষ্যতে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) নিরাপদ বাসস্থান, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভারতে নিরাপদ জীবন ও বাসস্থান ইত্যাদি চিন্তা নিয়ে ১৯৪৭ সালে সদর সিলেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্রী হৃদয়নাথ নাথ মহাশয়ের বাড়িতে সেখানকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই সমিতির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বেও কয়েকটি সভার আয়োজন করা হয়েছিলো এবং প্রতিটি সভার মূল বিষয়বস্তু ছিলো ভারতে নিরাপদ উদ্বাস্তু উপনিবেশ স্থাপন।

          ভারতের আসাম, মেঘালয় ইত্যাদি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তখন স্থায়ী/অস্থায়ীভাবে বিকল্প ও নিরাপদ বাসভূমির খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের রজনী (বিদ্যারত্ন) অধিকারী, সিলেটের রিরশ্রীর দিগিন্দ্র কুমার নাথ, পঞ্চমন্ডের কমলাচরণ নাথসহ আরও অনেক ব্যক্তিত্বরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এভাবেই পরবর্তীতে ত্রিপুরা রাজ্যের দেওভ্যালী অঞ্চলে স্বস্তি সমিতির স্থায়ী আবস্থান হয়।
          ত্রিপুরার মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবী পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে আগত বিপন্ন মানুষজনদের জন্য শর্তসাপেক্ষে অব্যবহৃত ভূমি স্বস্তি সমবায় সমিতিকে দিতে ইচ্ছুক হন এবং ১০০০ (এক হাজার) দ্রোণ জমি প্রদান করা হয়। পরবর্তীকালে মহারাণীর নামানুসারে সেই অঞ্চলের নাম কাঞ্চনপুর রাখা হয়।

এই সমিতির প্রথম বিধিবদ্ধ সম্পাদক হন শ্রী দিগিন্দ্র কুমার নাথ, যিনি ডি. কে. নাথ নামেই পরিচিত ছিলেন। আসামের শিলচর গুরুচরণ মহাবিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ হন। চাকুরী জীবনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মিলিটারী সার্ভিসে যোগদান করে বর্তমান বার্মাদেশের রেঙ্গুনে কর্মরত ছিলেন। এই সমিতির প্রথম সভাপতি হন রজনী মোহন (বিদ্যারত্ন) অধিকারী মহাশয়। এই অত্যন্ত পণ্ডিত ও সৎজন ব্যক্তির সংস্কৃত ভাষা ও শাস্ত্রে ছিলো অগাধ জ্ঞান, ছিলেন দূরদর্শী ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্নও। শ্রী নাথ ও বিদ্যারত্ন মহাশয়সহ অন্যান্য সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কাঞ্চনপুরে এই সমিতি পরিপূর্ণতা লাভ করে এবং ১৯৭৪ সালে “স্বস্তি সমবায় সমিতি”-তে উন্নিত হয়। কাঞ্চনপুর এলাকার গছিরামপাড়া থেকে লালজুরি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ছিলো এই সমবায় সমিতির কর্মক্ষেত্র।

১৯৫৫ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারী সমিতির সকল সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রয়াসে কাঞ্চনপুরের পশ্চাদপদ পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগের জন্য সড়ক উন্মুক্ত করা হয়। পানিসাগর থেকে কাঞ্চনপুর পর্যন্ত দূরত্ব ছিলো প্রায় ২৩ মাইল। পূর্বে কাঞ্চনপুর যাওয়ার জন্য দেওনদিই ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ধর্মনগর থেকে কাঞ্চনপুর যেতে কয়েকদিন লেগে যেত কারণ, স্রোতের প্রতিকূলে দেওনদীকে মাধ্যম করেই যেতে হত। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ২২শে ডিসেম্বর আনুমানিক ২৩ মাইল দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থ কাঞ্চনপুর-পানিসাগর রোডটি আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন ত্রিপুরা সরকারকে হস্তান্তর করা হয়। ঐ সময় ‘স্বস্তি রোড’ হিসাবেই রাজ্য সরকারকে তা দেওয়া হয়, যদিও বর্তমানে অনেকেই এই নাম জানেন না।

   
          ত্রিপুরা রাজ্যে স্বস্তি সমবায় সমিতির প্রথম কার্য্যালয় বা অফিস ছিল ধর্মনগরের বর্তমানে অফিসটিল্লা অঞ্চলে। সমিতির অফিস স্থাপনের কারণেই এই নামকরণ হয়েছিলো বলে জানা যায়। তখন ধর্মনগরে একটিমাত্র টাইপ মেশিন ছিলো যা স্বস্তি সমিতির সম্পত্তি ছিল এবং এই মেশিনটি দিয়েই তখনকার সময়ে ধর্মনগরের হাতে গোনা বাকি কয়েকটি অফিসের কাজ করা হত।

          কাঞ্চনপুরে বর্তমানে তিন ধরণের ভূমি মালিকানা রয়েছে, যথা –
(১) সরকারী জোত জমি
(২) সরকারী খাস জমি
(৩) স্বস্তি জোত জমি

বর্তমানে স্বস্তি সমবায় সমিতির কমিটি গঠন করা হয় সরকারীভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে। এই নির্বাচনে সমিতির অংশীদার বা শেয়ার হোল্ডাররাই কেবলমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।


কোন মন্তব্য নেই