HeadLogo

বন্যার কব‌লে উত্তর জেলার কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েত - Sabuj Tripura News


সবুজ ত্রিপুরা, 
৩১ মে, ২০২০
রবিবার


চুরাইবাড়ি প্রতিনিধি: মি‌নি বন্যার কব‌লে উত্তর জেলার কদমতলা ব্লকাধীন কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রিপুরা অসম সীমান্ত কুর্তি এলাকা। জন দূ‌র্ভোগ চর‌মে। গত কয়‌দি‌নের অ‌তিবৃ‌ষ্টির ফ‌লে পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমের কুর্তি নদী, কালা নদী, শার্জুল ছড়া, কিরিমটি ছড়া, কয়লা নদী, জোর গঙ্গা, মেদিনী ছড়া সহ ছোট বড় প্রায় ১১ টি ছোট-বড় নদী নালার জল‌ বেঁ‌ড়ে যাওয়াতে ঐসকল নদী-নালার জল ত্রিপুরা অসম সীমান্তবর্তী এলাকায় ঢুকে পড়ে। বর্তমানে কুর্তিগ্রাম পঞ্চায়েতের ১নং ওয়ার্ডের মানিকনগর এলাকা বং ২নং ওয়ার্ডের সকল রাস্তাঘাট বন্যার জ‌লের তলায় পড়ার খবর পাওয়া গে‌ছে। রাস্তাঘাট জলের তলায় যাওয়াতে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫/২০ টি পরিবারের লোকজন। যদিও এখন পর্যন্ত কোন ঘরে জল প্রবেশ করেনি তবুও প্রতি মুহূর্তে জল বৃদ্ধি পাচ্ছে আর তাতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা ভুগছেন গোটা কুর্তিবাসি। কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নং ওয়ার্ডের মানিকনগর ও ২ নং ওয়ার্ডের সকল রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে গিয়ে বেশ কিছু পরিবার গৃহবন্দী হওয়াতে আজ নৌকা নিয়ে সরজমিনে বন্যার জলে গৃহবন্দী পরিবারের খোঁজখবর নিতে যান কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুব্রত শব্দকর ও উপপ্রধান আলতাফ হোসেন। উনারা সরজমিনে গৃহবন্দী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত করেন যে, যেভাবে কুর্তি এলাকার মানিকনগর ও পাশের গ্রামে জল বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।আর যদি ভয়াবহ বন্যার রূপ ধারণ করে তাহলে উনারা কদমতলা ব্লক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ক্রমে কুর্তি এলাকায় রিলিফ ক্যাম্প ও ত্রানের বন্দোবস্ত করবেন। সুতরাং সাধারণ জনগণ যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন বা বিভ্রান্ত না হন তার প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখছে করতে গ্রাম পঞ্চায়েত।


এদিকে গৃহবন্দী পরিবারের লোকজনরা জানান, দুই-তিনদিনের প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে আসাম থেকে জল ঢুকে মানিকনগর সহ পাশের গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট জলের তলায় চলেগেছ।এমনকি প্রতিমুহূর্তে জল বেড়েই চলছে আর তাতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও প্রতি বছর কুর্তি এলাকার ৩/৪ টি গ্রাম বিশেষ করে মানিক নগর এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়ে থাকে।সুতরাং স্থানীয়দের দাবি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন যেন তাদের দিকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। গৃহবন্দি পরিবারের লোকজনরা আরো জানান,বর্তমানে লকডাউন চলছে আর লোক ডাউনে মানুষ এক প্রকার গৃহবন্দী। পাশাপাশি বন্যার জলে রাস্তাঘাট ডুবিয়ে উনারা আরও বিপাকে পড়েছেন। ছোট ছোট নৌকাই উনাদের একমাত্র ভরসা।

অপরদিকে কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান জানান, প্রতিবছরই আসামের ছোট-বড় প্রায় ১১ টি নদী-নালার জল রাজ্যের সীমান্ত কুর্তি এলাকায় প্রবেশ করে ভয়াবহ বন্যার আকার ধারণ করে। সুতরাং বর্তমানেও ছোট-বড় নদী-নালার জল ঢুকে কুর্তি এলাকার মানিকনগর ও তার পাশের গ্রামে মিনি বন্যার আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বন্যার জল বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে দুটি গ্রামের সকল রাস্তাঘাট জলের তলায় গেলেও যেভাবে জল বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে দুটি গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি বন্যার জলে প্লাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান আশ্বস্ত করেন যে, উনারা আজ সরজমিনে বন্যার জলে গৃহবন্দী পরিবারের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত করেছেন যে, উনারা সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে আছেন। আর যদি ভয়াবহ বন্যার আকার ধারণ করে তাহলে রিলিফ ক্যাম্প ও ত্রাণশিবিরে ব্যবস্থা করবে কুর্তি গ্রাম পঞ্চায়েত। 

কোন মন্তব্য নেই